খুলনার স্বাধীনতা এবং বীরত্বের কাহিনী - ১



মূলপেজ



লেখকঃ সাইফুল আলম চৌধুরী। লস এঞ্জেলস, ক্যালিফোর্নিয়া।


বন্ধুরা আমারা ১৭ ডিসেম্বর খুলনা ডে পালন করতে যাচ্ছে। এটা এখন আর কল্পনা নয় বাস্তবতা। সবাই হয়ত জানি যে সারা বাংলাদেশ যখন ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের আনন্দে উদ্বেল তখন আমরা খুলনার জনগন যুদ্ধ করছি পাকিস্থানি বাহিনিকে হটানর জন্যে। হ্যাঁ আমি এখন সেইযুদ্ধটার কথা বলব যেটা ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম একটা যুদ্ধ । যে যুদ্ধের কথা শুনলে খুলনার মানুষ হিসেবে তোমাদের বুকের ছাতি ফুলে আশি ইঞ্চি হয়ে যাবে।
“ট্যাঙ্ক ব্যাটল অব শিরোমনি”র গল্প বলব আজ। যে যুদ্ধের কারনে খুলনা বিজয় হয়েছে সারাদেশ থেকে একদিন পরে। সেই যুদ্ধের ভেতরে লুকিয়ে আছে আমাদের সৌর্য্যের কথা। ট্যাঙ্ক ব্যাটল অব শিরোমনির যুদ্ধ এবং তার স্ট্রাটেজি, তার টেকনিক, তার ডেডিকেশন, তার লীডারশীপ ইয়োরোপ আমেরিকা সহ বিশ্বের ৩৪ টারও বেশি সামরিক শিক্ষা কলেজে আজও পড়ান হয়।
পাকিদের জন্য প্রেক্ষাপট ছিল পরাজয়ের। সারাদেশ থেকে তাড়া খেয়ে পালানরও পথ পাচ্ছে না তাই ঢাকায় আত্মসমর্পনের মধ্যদিয়ে নিরাপত্তা খুঁজে নিল। কিন্তু একই সময়ে রটনা ছড়িয়ে পড়ল পাকিদের বন্ধু আমেরিকা সপ্তম নৌ বহর পাঠিয়েছে পাকি সেনাদের উদ্ধারের জন্যে। মেজর জেনারেল হায়াত খানের নেতৃত্বে যশোহর খুলনা সাতক্ষীরার সমস্ত পাকিস্থানি সৈন্যরা জড় হল এসে খুলনার শিরোমনি এলাকায়। এখান থেকে তারা কোনও রকমে মংলায় পৌছুতে পারলেই সপ্তম নৌবহর । তারপর তারা নিরাপদ। সপ্তম নৌবহর ছিল মংলার বহির্নোঙ্গড়ে । ভারত বর্ডারের কাছে হওয়ায় মেজর জেনেরেল হায়াত খানের নেতৃত্বে ছিল পাকিস্থানের বৃহত্তম ট্যাংক বহর ও আর্টিলারি ডিভিশন।
মেজর মঞ্জুর (যিনি পরবর্তীকালে প্রেসিডেন্ট জিয়া হত্যার অভিযোগে কাউন্টার ক্যুতে মৃত্যু বরন করেন) এর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারাও প্রস্তুতি নেয় প্রতিরোধের। পালিয়ে যেতে দেওয়া হবে না পাকিদের। মেজর জলিলের নেতৃত্বের নয় নম্বার সেক্টর থেকে অংশ নেয় প্রতিরোধ যুদ্ধে। ভারতীয় মিত্রবাহিনির প্রধান মেজর জেনারেল দলবির সিং নিজ সেনাবাহিনির নিরাপত্তার জন্যে মেজর মঞ্জুরের হাতে পুরা যুদ্ধের নেতৃত্ব ছেড়ে দিয়ে নিরাপদ দুরত্বে অবস্থান নেন । ১০ ডিসেম্বর থেকে যিদ্ধ শুরু হয়ে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত একটানা চলে এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ।
মেজর মঞ্জুর একজন বাঙ্গালী হিরো রাতের অন্ধকারে লুঙ্গী পরে স্যান্ডো গেঞ্জি গায়ে খালি পায়ে মাথায় গামছা বেঁধে শ্রমিকের বেশে দুই হাতে দুইটা স্টেনগান নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিদের ট্যাংক বহরের ভেতরে। প্রতিটা ট্যাংকের ভেতরে খুঁজে খুঁজে একজন একজন করে গানম্যানকে হত্যা করে স্তব্ধ করে দেয় পাকিস্থানি ট্যাঙ্কবহরকে। ১৭ ডিসেম্বর খুলনার সার্কিট হাউজে গিয়ে আত্মসমর্পন করতে বাধ্য হয় পাকিরা।
আমাদের এ অর্জনকে আমরাইতো সেলিব্রেট করব।